FutureThink

রূপান্তর ও সার্থকতা

বিশ্বের প্রায় সকল বড় প্রতিষ্ঠান একটা রূপান্তরের চেস্টা করছে, কেউ কেউ চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের জন্য তৈরি হচ্ছে কেউবা রেভিনিউ স্ট্রীম এর গ্রাফকে ধরের রাখার চেস্টা করছে। সকলেই ভবিষ্যতকে নানান কারণে বর্তমানের চেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জিং মনে করছেন, যেখানে গতানুগতিক ব্যবসা কিংবা দক্ষতা আর কাজে লাগবে না। মানবিক মূল্যবোধ আর বুদ্ধিদীপ্ত আবেগের সংমিশ্রণকে ভবিষ্যতের সফলতা কিংবা সার্থকতার মূলমন্ত্র হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন বা সিস্টেম ডেভেলপমেন্ট আগ্রহের বিষয় বলে প্রায়ই যোগসূত্র খোজার চেস্টা করি। সকল সফল প্রতিষ্ঠানের প্রধান বা প্রতিষ্ঠাতাদের মাঝে একধরণের মিল রয়েছে। তারা প্রত্যেকেই খুব উন্নত বা অগ্রজ চিন্তাভাবনার অধিকারী। ভবিষ্যতকে যে আসলে সবচেয়ে নিখুতভাবে কল্পনা করতে পারে তিনিই নেতা হিসেবে আবির্ভুত হন। প্রায় সকলের ক্ষেত্রেই এই সূত্র মিলে যায়।

সমস্যা হচ্ছে সফল হলেই যে সার্থক হওয়া যায় তা না, সার্থক হতে গেলে মানবিক গুণের সর্বোচ্চ প্রকাশ এবং প্রয়োগ অতি জরুরি এক বিষয়। শিল্প বিল্পবের ধাপে ধাপে ‘চালাক’ কিংবা ভবিষ্যতকে গননা করা এবং ‘বণিক’ শ্রেনীর লোকজন সস্তা শ্রম ও বোকা মেধাবীদের ঘামকে ব্যবহার করে সম্পদ গড়ে নিয়েছে তারপর জীবনের শেষপ্রান্তে এসে বার্গারের লাইনে দাঁড়িয়ে বা ভারতে একটি টিনের ‘টাট্টিখানা’ তৈরি করে নিজের সফলতাকে সার্থকতাতে রূপান্তরের চেস্টা করেন।

সাম্প্রতিক রূপান্তর বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ঐ সফলতাকে সার্থক করার চেস্টা বলে মনে হয় আমার, কারন ভবিষ্যতের মানব সমাজ শিক্ষা এবং চিন্তা দক্ষতায় সকল সময়কে ছাড়িয়ে যাবে। আর তাই সফল হলেই যে টিকে থাকা যাবে তা নয়, সকলকিছুই সার্থক হতে হবে তা নাহলে কালের গহবরে পূর্বের ন্যায় সকল কিছুই হারিয়ে যাবে। বোকা শ্রমিককে পূজি করে যে সম্পদ গড়েছে এখন তা বোকা মেশিনের উপর ভর করে মানবিকতার আস্ফালন দিয়ে সার্থক করার একটা মিছে চেস্টা। দিনশেষে যেখানে পুজিবাদের গন্ধ সেখানে রূপান্তর মিছে মরিচীকাই, যেমন জ্যাক মা’র সাম্প্রতিক সময়ে নায়ক বনে যাওয়া কিংবা এপিজে আবদুল কালাম সকলের কালজয়ী উক্তির পেছনে হাজারো মানুষের কষ্ট, শ্রম ঘাম এবং রাজনীতি জড়িয়ে আছে, তাদের রূপান্তর হলেও ইতিহাসের পাতায় উপক্রমণিকার প্রয়োজন হয়।

অথচ মাদার তেরেসা কিংবা নেলসন ম্যান্ডেলা যারা সার্থকতার মাঝে সফলতা খুজে নিয়েছেন তারা অমর হয়েছেন নিজের রূপান্তরের গল্প দিয়ে। রূপান্তরের চেস্টায় তাই মূল মন্ত্র হোক কত বড় হওয়া যায় সে চেস্টা না করে মানুষের শুদ্ধ হৃদয়ের কতটুকু সংযোগ ঘটানো যায়, ভবিষ্যৎ সকলকে এক নতুন দৃষ্টি দিবে এবং সেই দৃষ্টি সকল অদৃশ্যকে দেখার সক্ষমতা দিবে। সুতরাং, নতুন সময়ে টিক থাকার চেস্টার চেয়ে নিজের শুদ্ধি বেশি জরুরি!

Please follow and like us:
error0
fb-share-icon
Tweet 20
fb-share-icon20

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *