Travel Blog

নিরাপত্তা পরিষদে কয়েক মুহুর্ত

জাতিসংঘের সদর দপ্তরে নিরাপত্তা পরিষদের সভাকক্ষের নিরাপত্তা শিথিল দেখে ঢুকে পড়লাম। বেশ গুছানো, শান্ত, সৌম্য এক পরিবেশ। বেশ কিছু ফটো তুলে নিলাম দ্রুতই, পাছে নিরাপত্তারক্ষীরা বের করে দেয়। ছবি তোলার পর ভাল করে এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখার সুযোগ হলো।

হঠাত করেই মাথায় এলো এই সভাকক্ষে কি ফিলিস্থিনের ছোট্ট শিশুটির নিরাপত্তার কথা ভাবার সুযোগ আছে? কিংবা কাশ্মীর বা পৃথিবীর আরো সংবেদনশীল আর নিরপরাধ জনগোষ্ঠীর? এই কক্ষে নীরব আরামদায়ক শীতল পরিবেশে উত্তপ্ত মরু দেশের সেই ছোট শিশুর কথা ভাবার সুযোগ খুবই কম। এমনিতেই কূটনৈতিক ব্যকারণ সাধারণ মানুষের আবেগ আর শান্তির মৌলিক বিষয় থেকে শত হাত দূরের এক দূরহ প্রচলন। এই ব্যকরণে দেশের সীমানা আর মানুষের পার্থক্যই সিদ্ধান্ত ঠিক করে দেয়, জনপদের সংস্কৃতি আর জীবনাচার অতি তুচ্ছ বিষয়।

নিরাপত্তা পরিষদে প্রবেশের ঠিক কাছেই একটা দেয়ালে ফিলিস্থিন এবং জাতিসংঘের অবস্থান সম্পর্কে খুব সুন্দর একটা সাজানো কথামালা আছে। তার মানে এই নিরাপত্তা পরিষদের আশে পাশে এরকম ধারনা অনেকেরই হয়ত হয়, তাই হয়ত এরকম সুন্দর সাজানো দেয়াল চিত্র। কিন্তু তারপরেও কি প্রশ্ন থেকে যায় কিনা সেটা খুব সহজেই অনুমেয়। জাতিসংঘ কি চাইলে তাদের ক্ষমতা একটু চর্চা করতে পারত না? কিন্তু যে স্থানে জাতিসংঘের সদর দপ্তর সেই স্থানে বসে আসলে এরকম চিন্তা করার সুযোগ আছে কিনা আমার জানা নেই। পুরো পৃথিবীটাই হয়ত এই দুষ্ট চক্রে আবদ্ধ।

যাই হোক, এই কক্ষে হয়ত বড় বড় নেতারা আসেন তাদের কূটনৈতিক দক্ষতা আর উন্নয়নের বুলি আওড়ানোর জন্য আর আন্তর্জাতিক মাধ্যমে নিজেকে জাহির করার জন্য, আমার মত ক্ষুদ্র মানুষ আসে ছবি উঠিয়ে ফেসবুকে রাজা উজির মারার জন্য। সকলে শান্তিতে থাকুক, পৃথিবীর প্রতিটি প্রাণ এই কক্ষের মত নিরাপদ পরিবেশে বেঁচে থাকার সমান সুযোগ পাক।

মোঃ আরিফ রায়হান মাহি 
Md Arif Raihan Maahi
Please follow and like us:
error0
fb-share-icon
Tweet 20
fb-share-icon20

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *